এক নজরে

www.jbcinfo.com
〒272-0132
Chiba Ken, Ichikawa-shi
Minato Shinden 1-6-15
Contact:
090-6004-5848(saiful)
080-3414-2634(hasan)
080-4081-4939(Elias)
E-Mail:
saiful_saif@yahoo.com
hasansahid@yahoo.com
remika@rani.jp

না বলা কথা

আমাদের মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক মোনভাব --সিকদার সাগর (টোকিও,জাপান)

রাজনীতির সার্থে দেশ নয় , দেশের সার্থে রাজনীতি এবং জনগনের সার্থেই রাজনীতির আদর্শ হওয়া উচিত । ইতিহাস মুখস্থ রেখে ভাল বক্তব্য দিলেই ইতিহাসে মাওলানা হওয়া যায়না , সঠিক ইতিহাসের সততাকে স্বীকার করা স্বীকৃতি দিতে হয় । যে জাতি তার দেশকে মাতৃ সমতুল্য ভালবাসতে পারেনা , সে জাতি কখনোই উন্নতির শিখড়ে দাঁড়াতে পারেনা । মাতৃ ভালোবাসাকে বন্টন করা যায় কিন্তু মাকে বন্টন করা যায়না । যে জাতি নাগরিক অধিকার সমতালে পায়না , সে জাতির মাঝ থেকে কখনই জাতি দন্ড বিভেদ কলহ দূর হয়না ।

আমরা রাজনীতিবিদ বক্তাগণ কখনোই সঠিক এবং বন্ধ পরিকল্পনাময় দেশও জাতির উন্নয়নে ভবিষত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুই বলিনা । যদি বলতে পারতাম তাহলে সম্মুখেই এগিয়ে যাওয়ার প্রায়স আমাদের থাকতো । আমরা সবসময় বেক ডেটের গল্প বলি এবং বলতে ভালবাসি ।আমাদের দেশে বিনোদন গুলিও ঠিক তাই । টিভি সিরিজ থেকে শুরু করে চলচিত্র সিনেমা পর্যন্ত আমাদের একই দশা । পিছনের ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলিকে দলিয়ে মুচড়িয়ে বড় জোড় চলমান বর্তমান পর্য়ন্ত দাঁড় করাতে পারি কিন্তু চলমানকে আমরা কোন ভাবেই সুন্দর ভবিষত্ গড়ার বাস্তবায়নে পরিকল্পনামুখী করে নিয়ে যেতে পারিনা ।

আমরা দেশ ও জন সেবার নামে রাজনীতি সাইনবোড হাতে নিয়ে কোনটাই সঠিক ভাবে করছিনা । করছি দলীয় সেবা , দলীয় নেতা কর্মীর সেবা । দলীয় বড় এবং সিনিয়র নেতাকে করছি ঈশ্বর পুঁজা । নিজের পদ পজিশন টিকিয়ে রাখার জন্য এবং পকেট ভারী করার জন্য দলীয় নেতা কর্মীর তাবেদারী করছি । অন্য়ায় এবং ত্রুটিটাকে চোখে দেখেও ঠাঁহর করছিনা । এভাবেই আমরা নিজেকে নিজের বড়র কাছে , বড় তার বড়র কাছে তাবেদারী করতে করতে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করছি ।

আমরা কখনোই নিজ নেতার ত্রুটি এবং সমালোচনা করিনা , অথচ সঠিক রাজনীতি প্রথমে আমাদের এটাই করা উচিত্ । আমরা নেতার একটা গুনকে বাহ বা-হ দিতে দিতে যতবারই মূখে ফেনা উঠাই ঠিক ততিবারই প্রতি পক্ষের নিন্দা এবং সমালোচনা করি , বিরোধী দলীয় নেতা বা প্রতিদন্ডী হিসাবে । নিজেদের ত্রুটির কথা সমালোচনা করতে যেমন ভুলে যাই ঠিক বিরোধী দলীয়ে নেতার ভাল দিকটা তেমনি স্মরণ করতেও ভূলে যাই । যতোবার আমরা প্রতি পক্ষের সমালোচনা করে মূখে ফেনা উঠাই তার একশত ভাগের এক ভাগ যদি আমরা সঠিক ওয়াদা বন্ধ ভাবে দেশ প্রেমের কথা বলে মুখে ফেনা উঠাইতে পারতাম তাহলে দুর্নীতিগ্রস্থ বাংলাদেশ না হয়ে দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ হতো । যে নেতা নিজেই নিজের সাথে মিথ্যা কথা বলছে , নিজেই নিজেকে ধোঁকা দিচ্ছে , নিজের বর্তমানে দাঁড়িয়ে ভবিষতের সাথে দুনীতি করছে সে নেতার কাছ থেকে জাতি এবং দেশ ভাল কি প্রত্যাশা করতে পারে !!!

এক জন যোদ্ধা সব সময়ই সে যোদ্ধা , সব সময়ই সে দেশ প্রেমিক । সময়ের প্রেক্ষা পটে তার যোদ্ধ কৌশল আমরণ অবধি ভিন্ন ভিন্ন পথ অবলম্বন করতে পারে । যে তার জীবনকে বাজি রেখে দেশের জন্য যোদ্ধে ঝাপিয়ে পরতে পারে সে-ই হলো জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান । কিন্ত একজন রজনীতি নেতা কখনোই শতভাগ দেশ প্রেমিক না । এক প্রকারে সে শত ভাগই নিজ প্রেমিক । সে কারণেই সে তার সুবিধা অসুবিধা বুঝেই দলীয় ভাবে পরিবর্তন করে । গতকাল যার সমালোচানা করে মূখে ফেনা উঠিয়েছে আজ তার-ই গুন গান করতে করতে ভিন্ন মাত্রায় মূখে ফেনা উঠাচ্ছে । আবার এক জন সত্যিকারে রাজনীতিক নেতা ও সময়ে সময়ে একজন যোদ্ধার সমপরিমান দেশ প্রেমিক , আবার কখনো অনেক বড় মাপের মানুষ । তেমনি এক জন বীর মুক্তি যোদ্ধা আবার সময়ের প্রক্ষাপটে এজজন বড় মাপের নেতার চেয়েও অনেক গুনে বড় । তাই কখনই একজন মুক্তি যোদ্ধাকে এবং একজন রাজনীতিবিদকে একই কাতরে তুলনা না করা । যদি কেউ করেন তাহলে তা পরিহার করা আমাদের উচিত । তারা কেউ কারো পরিপূরক বা সম্পূরক না । একজন যোদ্ধা যখন পরাজিত হয় তখন সে জাতির নেতার গলায় মৃত্যুর ফাঁদ লাগে । আবার একজন যোদ্ধা যখন বিজয় ছিনিয়ে আনে তখনই সে নেতা জাতির শ্রেষ্ঠ উপাধী পায় ।

একজন মুক্তি যোদ্ধাও জাতি অধিকারে রাজনীতি করতে পারে । সময়ের আবর্তনে ,সময়ের প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারে ।ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলে যোগদান করতে পারে । তাতে করে কিন্তু তিনি অন্য দেশের বা ভিন দেশের নাগরিক হয়ে যান না । আজকের বাংলাদের রাজনৈতিক হিংস্রতায় মুক্তি যোদ্ধরা অনেক ভাবে অবহেলিত । যে দেশে একজন মুক্তিযোদ্ধা অবহেলিত হচ্ছে সে জাতির জন্য এর চেয়ে কলন্কের অধ্যায় আর কি হতে পারে !? আর আম জনতার-ই বা দশা হতে পারে ? বাংলাদেশে নয় শুধু সারা পৃথিবীতে একই পরিবারের দুই ভাই বা বোন ভিন্ন দল নিজ নিজ পছন্দ মতো করতে পারে , এবং অনেকেই করছে । কিন্তু এক ভাইয়ের মূত্যুতে তো কখনো অপর ভাইকে রাজনৈতিক দন্ড টেনে আনতে সচরচর দেখা যায়না ।দল যা-ই করুক তখন সে তার ভাই হয়েই থাকে । তাহলে একজন মুক্তি যোদ্ধার মৃত্যুতে কেন আমরা রাজনৈতিক দন্ড টেনে আনি ? একজন মুক্তি যোদ্ধা-তো সকলের চেয়ে উধ্বে , জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান তাহলে তার মৃত্যুতে কেন আমরা দলীয় দন্ড বাদ দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসাবে তার শেষ শ্রদ্ধন্জলী টি সমষ্ঠিগত ভাবে করতে পারিনা ? আমাদের উচিত্ এ সমস্থ হীন মনমানসিকতা থেকে নিজেকে প্রথমে মুক্তিদান করা , তাহলেই আমরা একজন মুক্তি যোদ্ধাকে সঠিক সন্মান দিতে পারব ।

আমি নিজে সিকদার সাগর , আমার পক্ষ্য থেকে দাবী জানাচ্ছি এবং আপনাদের সকলের পক্ষ্য থেকে গন প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমীপে দাবী জানানোর জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি ঃ- বাংলাদেশে যখন যে দলীয় সরকরই ক্ষমতায় থাকুক , একজন মুক্তিদযোদ্ধা সে যখন যে দলই করুক , তার মৃত্যুতে যেন আমরা জাতিগত ভাবে এবং সরকারী ভাবে তার শেষ শ্রদ্ধন্জলী বা সমাধী সম্পন্ন করারা দাবী জানাচ্ছি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসাবে । মুক্তি যোদ্ধের ৪০ বছর পার হয়েছে এখন প্রায় সকল যোদ্ধাগণই বয়সের দাড় প্রান্তে । তাদের আর পাবই বা কত বছর ?